ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তাপমাত্রায় চরম বিপর্যয়, বাইরের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ যে দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 3, 2026 ইং
তাপমাত্রায় চরম বিপর্যয়, বাইরের সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ যে দেশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) জানিয়েছে, রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে ইয়াংসানে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

ইয়াংসান কয়েক দিন ধরেই তীব্র তাপপ্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রোববার টানা পঞ্চম দিনের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে ডেগু, বুসানসহ আরও কয়েকটি শহরে তাপমাত্রা ৩০-এর শেষ ভাগে পৌঁছেছে।

প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় তাপ থেকে বাঁচতে মানুষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শপিং মল, ক্যাফে ও বিভিন্ন ভবনে আশ্রয় নিচ্ছেন। রাজধানী সিউলের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা কৃত্রিম জলকুয়াশা (মিস্ট-স্প্রে) ব্যবস্থার নিচেও অনেককে ভিড় করতে দেখা গেছে।

সিউলের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী অফিসকর্মী জু ডং-ইয়ল এএফপিকে বলেন, “এতটাই গরম যে বাইরে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। ঘর, শপিং মল বা ক্যাফের মতো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও থাকার কথা ভাবতেই পারছি না।”

সিউল থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গিয়ংজু শহরেও রোববার ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়াও তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে টানা এক সপ্তাহ ধরে রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি।

রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০টিরও বেশি এলাকায় জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়। চলতি বছর বাড়তে থাকা তাপমাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন এই সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলেই এই সতর্কতা জারি করা হচ্ছে।

আবহাওয়া প্রশাসন এক সতর্কবার্তায় বলেছে, “অবিলম্বে সব ধরনের বাইরের কার্যক্রম বন্ধ করুন। শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন ঘরের ভেতরেও অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ।” একই সঙ্গে নাগরিকদের দ্রুত কুলিং সেন্টার বা ছায়াযুক্ত স্থানে আশ্রয় নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরমে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী হান সিয়ং-সুক স্থানীয় প্রশাসনকে নিরাপত্তা তদারকি জোরদার এবং বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

কেএমএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার পূর্ব দিকের বাতাসের কারণে তাপপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হতে পারে। রাজধানী সিউলে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ জিওল্লা ও দক্ষিণ গিয়ংসাং অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে প্রাণঘাতী পর্যায়ে যেতে পারে।

এদিকে চীনের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়া ডলফিন নামের টাইফুনের গতিপথও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেএমএর মতে, টাইফুনটি পূর্ব চীনের দিকে অগ্রসর হলে দক্ষিণ কোরিয়ায় আর্দ্রতা আরও বাড়বে, ফলে তাপপ্রবাহ ও গরম রাতের পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে। তবে এটি যদি কোরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণাংশ ঘেঁষে যায়, তাহলে প্রবল বাতাস, মেঘ ও বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।

কেএমএর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বছরে গড়ে তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে পৌঁছেছে। দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহের দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। চ্যাংওন শহরের তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগের একটি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কোরিয়া বেসবল অর্গানাইজেশন।

বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া এখন আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্রভাবে দেখা দিচ্ছে। এর সঙ্গে চলতি বছরে এল নিনোর প্রত্যাবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন‌কে দে‌শে প্রত্যাবাসন, ফিরছেন ভোরেই

লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন‌কে দে‌শে প্রত্যাবাসন, ফিরছেন ভোরেই