ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ৬ বছর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ফরেনসিক চিকিৎসক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 12, 2026 ইং
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ৬ বছর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ফরেনসিক চিকিৎসক ছবির ক্যাপশন:
ad728

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বুয়েনস আয়ার্সের উত্তরে সান ইসিদ্রো আদালতে সাক্ষ্য দেন ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস ক্যাসিনেলি। যারা ম্যারাডোনার চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করেছে এমন একটি মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ক্যাসিনেলি।

ক্যাসিনেলির ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যারাডোনার শরীরে একাধিক শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিয়েছিলো, যা তার গুরুতর অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো। এর মধ্যে ছিল পায়ের নিচের অংশে পানি জমে ফুলে যাওয়া, আঙুল ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দন।

আদালতে ক্যাসিনেলি বলেন, এসব লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও কেন শরীরে এমন ফোলা তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে কেউ যথাযথভাবে এগিয়ে আসেননি। তার মতে, বিষয়টি জীবনহানির ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকেরা এসব সতর্কতামূলক সংকেত যথাযথভাবে বিবেচনা করেছেন বলে তাদের চিকিৎসা-পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়নি।

ম্যারাডোনার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি ছিলো তাকে হাসপাতালে না রেখে বাড়িতে চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত। ক্যাসিনেলির মতে, হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পরের দিনগুলোতে ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছিল বলেও তিনি আদালতকে জানান।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ম্যারাডোনা। এর কয়েক সপ্তাহ আগে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই সপ্তাহ পর বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ফরেনসিক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর সঙ্গে অ্যাকিউট পালমোনারি এডিমার কথাও উঠে আসে। এ অবস্থায় ফুসফুসে তরল জমে শ্বাসপ্রশ্বাস মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি কতটা গুরুতর ছিল, সেটিই এখন বিচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ক্যাসিনেলি আদালতে বলেন, মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা ম্যারাডোনা তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ও পরিস্থিতির যথাযথ মূল্যায়ন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তবে অভিযুক্ত সাত স্বাস্থ্যকর্মী ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য নিজেদের দায় অস্বীকার করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের কোকেন ও অ্যালকোহল-সংক্রান্ত সমস্যাসহ ম্যারাডোনার নানা শারীরিক জটিলতা ছিল। তাদের বক্তব্য, তার মৃত্যু চিকিৎসায় অবহেলার সরাসরি ফল নয় এবং তিনি স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতার কারণেই মারা যেতে পারেন।

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে এই বিচার তাই শুধু তার শেষ কয়েক দিনের চিকিৎসা নয়, বরং বাড়িতে তাকে কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল এবং গুরুতর শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়ার পর চিকিৎসকেরা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কি না এসব প্রশ্নের ওপরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

এদিকে মামলার বিচার আগস্টের পরও চলতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে আরও সাক্ষ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সামনে এলে ম্যারাডোনার মৃত্যুর আগে তার চিকিৎসাব্যবস্থায় আসলে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: আইসিটিমন্ত্র

কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: আইসিটিমন্ত্র