ঢাকা | বঙ্গাব্দ

২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা মরক্কোর, ফিফা দিলো ভিন্ন বার্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2026 ইং
২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা মরক্কোর, ফিফা দিলো ভিন্ন বার্তা ছবির ক্যাপশন:
ad728

যদিও ফিফা বলছে, ফাইনালের আয়োজক দেশ নিয়ে ‘উপযুক্ত সময়ে’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশকে ফাইনালের আয়োজক হিসেবে ঘোষণা করেনি।

২০২৬ বিশ্বকাপের আসর শেষ হয়েছে চলতি গ্রীষ্মে, যেখানে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এর পর থেকেই ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিজেদের দেশে আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছেন মরক্কো ও স্পেনের কর্মকর্তারা।

ফিফার এক মুখপাত্র ইএফই সংবাদ সংস্থাকে বৃহস্পতিবার বলেন, গত ৫ আগস্ট সংস্থাটি যেমন জানিয়েছিলো, ‘উপযুক্ত সময়ে’ ফাইনালের আয়োজক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ওই তারিখে ফিফা অবশ্য এরই মধ্যে এমন দাবি অস্বীকার করেছিলো যে, আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নির্বাচনে সমর্থনের বিনিময়ে মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল ২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে।

বৃহস্পতিবার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লাকজা দাবি করেন, ফাইনাল আয়োজনের বিষয়টি মরক্কোর জন্য নিশ্চিত।

তিনি বলেন, ‘বেনস্লিমান শহর বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করবে। এটা পছন্দ হোক বা অপছন্দ, আর কেউ এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে বলতে পারে। শহরটি বেনস্লিমান, স্টেডিয়ামটি হাসান-২, আর আমি আশা করি মরক্কো সেখানে ফাইনাল খেলবে।’

এদিকে, চলতি সপ্তাহে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান রাফায়েল লৌসান জোর দিয়ে বলেছেন, ফাইনাল আয়োজনের যোগ্যতা স্পেনেরই। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, স্পেনকে এখনো এই সম্মান নিশ্চিত করা হয়নি।

লৌসান বলেন, ‘আমরা সবাই প্রার্থিতা গ্রহণের জন্য স্বাক্ষর করেছি... দুঃখজনক বিষয় হলো, ফাইনালের ক্ষেত্রে কোথায় এটি খেলা হবে, তা স্পষ্টভাবে, পুরোপুরি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। পুরুষ ও নারী- উভয় ফুটবলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনেরই ফাইনাল আয়োজন করা উচিত।’

ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করেন, বহুজাতিকভাবে আয়োজিত ২০৩০ বিশ্বকাপকে ইউরোপীয় আয়োজন হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত এবং ফাইনালটি ইউরোপ মহাদেশেই হওয়া উচিত।

স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর পাশাপাশি ২০৩০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো নিজেদের জাতীয় দলের জন্য আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ পুরোপুরি মন্টেভিডিওতে অনুষ্ঠিত হওয়ার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই দেশগুলোকে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ফাইনাল নিয়ে এই বিরোধ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর ছাতাসংগঠন উয়েফার নেতৃত্বে একটি সফল বিদ্রোহের পর তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। উয়েফা ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের মালিকানায় অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে সফল হয়েছিলো।

এর বিপরীতে, মরক্কোসহ ছয়টি আরব দেশের ফুটবল ফেডারেশন ওই ঘটনার পর থেকে ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

ক্যাসাব্লাঙ্কার কাছে কিং হাসান-২ স্টেডিয়ামটি বেনস্লিমান শহরে, ক্যাসাব্লাঙ্কার উপকণ্ঠে নির্মাণ করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামটিতে ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফাইনাল আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে স্পেনের রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার হোম স্টেডিয়াম। সংস্কারকাজের পর বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক ধারণের ব্যবস্থা থাকবে। অন্যদিকে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ের ধারণক্ষমতা ৭৮ হাজার ২৯৭।

সম্প্রতি ইনফান্তিনো দুবার মরক্কো সফর করেছেন। জুলাইয়ে দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের সিংহাসনে আরোহণের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর আগস্টে সেখানে ফিফার একটি সংকটকালীন বৈঠকও করেন তিনি।

তিন বছর আগে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার সময় এটিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি আদর্শ আয়োজন হিসেবে দেখা হয়েছি।

কিন্তু ফাইনাল আয়োজন নিয়ে বিরোধের সময় মাদ্রিদ ও রাবাতের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনাও নতুন করে সামনে এসেছে। এর আগে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছোট্ট শহর সেউতায় সীমান্ত অতিক্রম করে হাজার হাজার মানুষ প্রবেশের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টের প্রভাবে মূলত মরক্কোর নাগরিকদের নিয়ে গঠিত বিশাল একটি দল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এই সীমান্ত পারাপারের ঘটনায় ১৪০ জন মারা গেছেন।

নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে স্পেন সরকারকে মরক্কোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিলো। তবে স্পেন সরকার বলেছে, সীমান্ত সংকটে মরক্কো সদিচ্ছা নিয়েই আচরণ করেছিলো। স্প্যানিশ পুলিশের মূল্যায়নে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি, তবে এতে বলা হয়েছিলো, মরক্কো সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল- এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম।-সূত্র: ইএসপিএন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
ঈদুল ফিতরে সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক স

ঈদুল ফিতরে সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক স