মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রতনপুর রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জিহাদুল ইসলাম ছোট শরীফপুর ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি হেকেম লিমিটেড কোম্পানির লালমাই উপজেলার এরিয়া ফিল্ড অফিসারের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রতনপুরের চানগাঁও এলাকার এ রেলক্রসিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো গেটম্যান বা নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পথচারী, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহন রেললাইন পারাপার করে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে জিহাদুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রতনপুর এলাকার বাসিন্দা আজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে কোনো গেট, গেটম্যান কিংবা সতর্কতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর আগে এখানে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বারপাড়া এলাকার বাসিন্দা জসিম বলেন, এখানে এর আগেও ৪ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় আজ একজন কর্মজীবী মানুষের প্রাণ গেল। এভাবে আর কত প্রাণ গেলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে এ প্রশ্নও তোলেন তারা।
বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের দাবি করেন, রতনপুর রেলক্রসিংয়ে দ্রুত গেটম্যান নিয়োগের পাশাপাশি গেট স্থাপন, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো চিহ্নিত করে সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) সোহেল মোল্লা বলেন, সেখানে গেটম্যান নেই এবং কোন সতর্কতার সুরক্ষাবলিত কিছু না থাকাতেই এ ঘটনা ঘটেছে।
কুমিল্লা স্টেশন মাস্টার শেখ আনোয়ার হোসাইন বলেন, এখানে নিজ দায়িত্ব পারাপার হতে হয়। আমাদের কোন দায়িত্বরত লোকবল সেখানে নেই। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।
বসির আহমেদ