অ্যাপলের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে জন টার্নাস নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। একই দিন টিম কুক নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। নেতৃত্ব পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত অ্যাপলের পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে।
২০১১ সালের ২৪ আগস্ট অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন টিম কুক। এর আগে ১৯৯৮ সালে অ্যাপলে যোগ দিয়ে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হিসেবে কাজ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের জটিল সরবরাহব্যবস্থা ও পরিচালন কাঠামো শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কুক।
স্টিভ জবসের পর অ্যাপলের নেতৃত্বে এসে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা আরও বিস্তৃত করেন টিম কুক। তার নেতৃত্বে আইফোন ও ম্যাকের পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস, অ্যাপল ভিশন প্রো এবং আইক্লাউড, অ্যাপল পে, অ্যাপল মিউজিক ও অ্যাপল টিভির মতো পণ্য ও সেবার সম্প্রসারণ ঘটে।
দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়ার পর নিজের উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেছেন টিম কুক। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মানুষ যেন তাকে একজন ‘ভালো ও সৎ মানুষ’ হিসেবে মনে রাখে—এটাই তার সবচেয়ে বড় চাওয়া।
কুকের পর অ্যাপলের নেতৃত্বে আসছেন জন টার্নাস। ২০০১ সালে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন দলে যোগ দেন তিনি। ২০১৩ সালে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। পরে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী দলে যোগ দিয়ে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসসহ অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার পণ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন টার্নাস। সিইও হিসেবে তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অ্যাপলের বর্তমান সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে টার্নাসকে সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন টিম কুক। তার মতে, একজন সিইওর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো—কোন কাজে নিজের সময় ব্যয় করা হবে তা নির্ধারণ করা। কোম্পানি ও ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি সুফল বয়ে আনবে, এমন ক্ষেত্রেই মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তবে সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না টিম কুক। নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবেন তিনি।
বসির আহমেদ