গায়ানার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমভি বারিমা নামের ফেরিটি শনিবার রাতে রাজধানী জর্জটাউন থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পোর্ট কাইতুমার উদ্দেশে যাত্রাকালে উপকূলের কাছে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার ঠিক আগে ফেরি থেকে জরুরি বিপদসংকেত (ডিস্ট্রেস কল) পাঠানো হয়েছিল।
গণপূর্তমন্ত্রী হুয়ান এডগিল এই দুর্ঘটনাকে গত কয়েক দশকের মধ্যে গায়ানার সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য গাফিলতি বা অবহেলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস। বিশেষ করে ফেরির ক্রু সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ফেরিটিতে ১১৬ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। কিন্তু উদ্ধার হওয়া ৩২ জনের নাম যাত্রী তালিকায় ছিল না। ফলে ফেরিটিতে প্রকৃতপক্ষে কতজন ছিলেন, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে হতাহত ও নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যাও আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।
দুর্ঘটনার পর ফেরির ক্যাপ্টেন এবং অন্তত আরও একজন ক্রু সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। মাদক পরীক্ষায় তাদের শরীরে গাঁজা সেবনের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গণপূর্তমন্ত্রী হুয়ান এডগিল বলেন, “দায়িত্ব পালনকালে মদ্যপান বা মাদক সেবনের বিষয়ে আমাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে। ক্যাপ্টেনের পরীক্ষায় মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।”
দুর্ঘটনার পর ফেরি পরিচালনা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অনিয়মও সামনে এসেছে। যাত্রীরা বহু বছর ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন, রাষ্ট্রীয় ফেরি টার্মিনালের কিছু কর্মকর্তা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে যাত্রী উঠালেও তাদের নাম আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতেন না।
গণপূর্তমন্ত্রী এডগিল এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অপরাধমূলক কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সঠিক যাত্রী তালিকা না থাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং হতাহতদের শনাক্ত করতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে আহত ও উদ্ধার হওয়া যাত্রী এবং তাদের স্বজনদের খোঁজ নেন প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী।
সেখানে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, “এটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন একটি অভিজ্ঞতা। আমি তাদের কথা শুনেছি, তাদের কষ্ট ও উৎকণ্ঠা অনুভব করেছি। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেবে।”
গায়ানার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই নৌ-দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের খুঁজে পেতে উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
বসির আহমেদ