গতকাল এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস একটি মহাপাপ। এটা রুখে দেওয়ার দায়িত্ব পুরো দেশের।’ একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
দিল্লিতে সংসদের লাইব্রেরি ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোদি সাংসদদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ভুল পথে চালিত হওয়া খুব সহজ, তবে সঠিক পথে ফেরানো কঠিন। যুবসমাজ ও শিশুদের উসকানি না দিয়ে সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী সব পক্ষকে একত্রিত হয়ে একটি শতভাগ ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে এক বিশাল সংসদ অভিযানের ডাক দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। প্রায় ২০ হাজার আন্দোলনকারী, যাদের বড় অংশই ছাত্র-যুব, পুলিশের ব্যারিকেড ও নিষেধাজ্ঞা ভেঙে সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ পরিচালনা এবং অনেককে আটক করে।
এই আন্দোলনের সমর্থনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, সাংসদদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তার এই অনশন চলবে।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে টানা আন্দোলনের মুখে সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে লিখিত দাবি গ্রহণ করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
যদিও সরকারের আলোচনার পরও সিজেপি ও সোনম ওয়াংচুক তাদের মূল দাবিতে অনড় রয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বসির আহমেদ