ঢাকা | বঙ্গাব্দ

তরুণরাই হবে বাঘ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অগ্রদূত: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 4, 2026 ইং
তরুণরাই হবে বাঘ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অগ্রদূত: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ছবির ক্যাপশন:
ad728

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “তরুণরাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করবে এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলবে।”

বাঘ, সুন্দরবন এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে “Youth Voice for Biodiversity Conservation” স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘টাইগার রান ২০২৬’ শীর্ষক সচেতনতামূলক আয়োজন।

বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যালায়েন্স (ওয়াইভিএ) Youth Volunteer Alliance (YVA)- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাশী (PROTTYASHI), আইইউসিএন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ বন অধিদফতর।

সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া মঞ্চ থেকে নিবন্ধিত ২৫০ জন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে পাঁচ কিলোমিটারব্যাপী ‘টাইগার রান’ শুরু হয়। দৌড়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা বাঘ সংরক্ষণ, সুন্দরবন রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

টাইগার রান শেষে সকাল ৭.৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, পদক ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, “তরুণরাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করবে এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সমানভাবে জরুরি। বাঘ ও সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, তরুণ সমাজ এবং সংরক্ষণে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

স্বাগত বক্তব্যে প্রত্যাশীর উপনির্বাহী পরিচালক সৈয়দ শহীদ উদ্দিন বলেন, “বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি প্রাণীকে রক্ষা করার বিষয় নয়; এটি আমাদের বন, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

বাংলাদেশ বন অধিদফতরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রত্যাশীর নির্বাহী পরিচালক মিসেস মনোয়ারা বেগম বলেন, “রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। বাঘকে রক্ষা করতে হলে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। আর সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ সমাজ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রত্যাশী দীর্ঘদিন ধরে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া)-এর আহ্বায়ক আদনান আজাদ। তিনি বলেন, “জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। তরুণদের নেতৃত্বে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে বাঘসহ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ আরও কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়; এটি দায়িত্বশীল নাগরিক ও পরিবেশবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে তোলার অন্যতম ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্ল্যাকস্টোন চ্যারিটি-এর গ্লোবাল অপারেশনস ডিরেক্টর হারুন অর রশিদ, প্রত্যাশীর উপসহকারী পরিচালক (প্রোগ্রাম) ড. নাসির উদ্দিন।

আয়োজকরা জানান, ‘টাইগার রান ২০২৬’-এর মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের মধ্যে বাঘ সংরক্ষণ, সুন্দরবনের পরিবেশগত গুরুত্ব এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর যুব নেতৃত্ব গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য “Securing the Future of Tigers with Indigenous Peoples and Local Communities at the Heart”-এর আলোকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ সমাজ এবং সংরক্ষণে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পদক ও সনদ বিতরণ করেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশে টেকসই সংরক্ষণ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যালায়েন্স (ওয়াইভিএ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক মো. গালিব।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
চামড়া সংরক্ষণে গ্রাম-উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ দেবে সরকা

চামড়া সংরক্ষণে গ্রাম-উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ দেবে সরকা