গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।
বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পান।
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রস্তাবে ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৪০০ টাকা মোবাইল ভাতার সুপারিশ করা হয়েছিল। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডে ১ হাজার ৫০০ টাকা, চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে ১ হাজার টাকা, ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডে ৫০০ টাকা এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে ৪০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ছিল।
প্রস্তাবিত ওই হারে ভাতা বাস্তবায়ন করা হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হতো।
তবে সচিব কমিটি ভাতার আওতা সব গ্রেডে রাখার বিষয়ে একমত হলেও ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন।
সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগে সব স্তরের কর্মচারীকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয়। ফলে সব গ্রেডের কর্মচারীকে ভাতার আওতায় আনা যৌক্তিক। তবে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে।
ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি কার্যকর করা হবে।
নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী। পাশাপাশি প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন।
বসির আহমেদ