বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙ্গামাটি বিএফডিসির উপ-ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ আলম জানান, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণের প্রথম দিনেই গতকাল মঙ্গলবার রাঙ্গামাটির চারটি ঘাটে মোট ১৯৩ টন মাছ অবতরণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি। আর এর মাধ্যমে প্রথম দিনেই সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে প্রায় ৪২ লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি রাজস্ব।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দিনে চারটি ঘাটে ১২৫ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ হয়েছিল, যা থেকে রাজস্ব আদায় হয় ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৭ টাকা।
মৎস্য আহরনের প্রথম দিন থেকেই বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি, মাইনী, শুভলং, গাছকাটাছড়া ও রাইংক্ষ্যং খালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ ঘাটে আসছে। ব্যবসায়ীরা শুল্ক পরিশোধের পর বরফ দিয়ে এসব মাছ সংরক্ষণ করে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠাচ্ছেন।
কাপ্তাই হ্রদে আবারো পুরোদমে মৎস্য আহরণ শুরু হওয়াতে ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য। তবে ঘাটে শৃঙ্খলা রক্ষায় সন্ধ্যা ৭টার পর মাছের ট্রলার বা বোট ভিড়ানোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।
বুধবার থেকে সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো মাছের বোট ঘাটে ভিড়তে দেওয়া হবে না। নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখলে সারা বছরই কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া সম্ভব হবে। তাই এ বিষয়ে সকল ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন রাঙ্গামাটি বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ।
রাঙ্গামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুর শুক্কুর বলেন, দীর্ঘ তিন মাস ১৫ দিন পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীরা ব্যস্ততম সময় পার করছেন। এবার মাছের উৎপাদন ভালো হবে এবং তারা লাভবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ২৫ এপ্রিল থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে হ্রদের পানির স্তর স্বাভাবিক না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর ১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) প্রথম প্রহর থেকে হ্রদে পুরোদমে মাছ শিকার শুরু হয়।
বসির আহমেদ