ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মেসি কি ব্রাজিলের হয়েও খেলতে পারতেন? নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 25, 2026 ইং
মেসি কি ব্রাজিলের হয়েও খেলতে পারতেন? নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইতালির ইতিহাসবিদ ও পেশায় ব্যাংকার ফিওরেঞ্জো সান্তিনি মেসির পারিবারিক বংশতালিকা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করতে গিয়ে এই তথ্য আবিষ্কার করেন। তার অনুসন্ধানে দেখা যায়, মেসির মাতৃসূত্রের পরিবারের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কেটেছে ব্রাজিলে। মূলত মেসির পূর্ণ নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি। এই ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবির সূত্র ধরেই এই সংযোগের সন্ধান মেলে।

সান্তিনি প্রথমে মেসির পিতৃসূত্রের ইতালীয় শিকড় খুঁজতে শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন, মেসির পিতৃসূত্রের প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসির বাড়ি ছিল ইতালির মারকে অঞ্চলের মাচেরাতা প্রদেশের রেকানাতি শহরে। ১৮৯৩ সালে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ইতালি ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে পাড়ি জমান।

এ প্রসঙ্গে সান্তিনি বলেন, ‘আমি মেসির বাবার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করি এবং ২০১৫ সালে তাকে পুরো গল্পটি জানাই। কয়েক বছর পর তিনি আবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি মেসির মায়ের পরিবারের বংশপরিচয়ও অনুসন্ধান করতে বলেন, যাতে ইতালীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা যায়।’

গবেষণায় আরও উঠে আসে, মেসির মাতৃসূত্রের পারিবারিক ইতিহাস শুরু হয় তার প্রপিতামহের বাবা রানিয়েরো কোচেত্তিনিকে দিয়ে। তার জন্মও ইতালির মারকে অঞ্চলের সান সেভেরিনো মার্কে শহরে, যা মেসির পিতৃপরিবারের একই প্রদেশে অবস্থিত। স্ত্রী রোজা রিক্কেজ্জাকে নিয়ে তিনি ইতালিতে জুলিয়া ও ফ্রাঞ্চেস্কো নামে দুই সন্তানের জন্ম দেন।

পরে পুরো পরিবার ‘ওয়াশিংটন’ নামের একটি জাহাজে করে ব্রাজিলে আসে এবং ১৮৯৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সান্তোস বন্দরে পৌঁছায়। সাও পাওলো রাজ্যের ইমিগ্রেশন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক নথিতেও এই তথ্যের প্রমাণ রয়েছে।

ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর সরকারি নথিতে রানিয়েরো কোচেত্তিনির নাম পরিবর্তিত হয়ে রামিয়েরো কনচেত্তিনি হয়ে যায়। সে সময় বানান ও উচ্চারণের জটিলতার কারণে অভিবাসীদের নাম-পরিচয়ে এমন পরিবর্তন খুবই সাধারণ ছিল। সরকারি নথিতে তাকে একজন কৃষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সাও পাওলোর রিনকাও এলাকায় ড. মার্তিনহো প্রাদো জুনিয়রের খামারে কাজ শুরু করেন, যা রিবেইরাও প্রেতো থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

রিবেইরাও প্রেতো অঞ্চলে বসবাসের সময় রামিয়েরো ও রোজার পরিবারে আরও দুই সন্তানের জন্ম হয়। সান সেভেরিনো মার্কে পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেন এরমিনিয়া এবং ১৯০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি জন্ম নেন আরদেরিগো।

ফিওরেঞ্জো সান্তিনির ভাষ্য অনুযায়ী, মেসির বর্তমান ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবির সূত্রপাত হয় এই আরদেরিগোর মাধ্যমেই। রিবেইরাও প্রেতোতে জন্মনিবন্ধনের সময় তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ফেদেরিকো এবং কোচেত্তিনি পদবিও বদলে কুচ্চিত্তিনি করা হয়।

সান্তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলে এসে আরদেরিগোর নাম হয় ফেদেরিকো, আর কোচেত্তিনি পদবি বদলে কুচ্চিত্তিনি হয়ে যায়। এই ফেদেরিকোই ছিলেন মেসির প্রপিতামহ।’

ফেদেরিকোর জন্মের মাত্র এক বছর পর পুরো পরিবার ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনায় চলে যায়। ১৯০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারা সেখানে পৌঁছে রোজারিও অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

পরবর্তীতে ওই পরিবারেই জন্ম নেন মেসির নানা আন্তোনিও কুচ্চিত্তিনি, এরপর তার মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং সবশেষে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্ম নেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি। অর্থাৎ তার প্রপিতামহের আর্জেন্টিনায় বসতি স্থাপনের ৮২ বছর পর জন্ম হয় বর্তমান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের।

সান্তিনি জানান, মূলত ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবিই তাকে এই অনুসন্ধানে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। কারণ ইতালিতে এই পদবির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাননি তিনি। পরে মেসির মায়ের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করার পর নিশ্চিত হন যে, ব্রাজিলে পৌঁছানোর পরই পরিবারের নাম ও পদবিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা কয়েক বছর গবেষণা করে মেসির মাতৃসূত্রের পূর্ণ পারিবারিক বংশতালিকা তৈরি করেন সান্তিনি। তার এই গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর লিওনেল মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক আগে জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়ে

হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক আগে জেলে যেতে হবে: শামা ওবায়ে