১ আগস্ট এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ইনফান্তিনো নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে তার বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব আনবে উয়েফা। উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশই এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থন পেলেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে।
ইতোমধ্যে ফিফা তাদের বিতর্কিত ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পরও ফিফার নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছে উয়েফা। উয়েফার দাবি, বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নার্মেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার ব্যর্থ চেষ্টার মধ্য দিয়ে ফুটবলবিশ্বের আস্থা হারিয়েছেন ইনফান্তিনো।
শুধু উয়েফা নয়, ফিফা সভাপতির ওপর চটেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও। ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের বাণিজ্যিকীকরণ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এন্ডি বার্নহ্যাম বলেন, ইনফান্তিনো ফুটবলের মতো সংস্থাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য "অনুপযুক্ত" এবং তার অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
এদিকে ৩৭ সদস্যের ফিফা কাউন্সিলের একটি অংশও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। অন্তত ১৯ সদস্যের সমর্থন পেলে দুই সপ্তাহের মধ্যে জরুরি বৈঠক ডেকে ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বান জানাতে পারে ফিফা কাউন্সিল। এমন অবস্থায় ফিফার সভাপতি পদ ধরে রাখা ইনফান্তিনোর জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে তাকে অনেক কঠিন কিছু করতে হবে বলে মনে করছেন ফিফার সাবেক সভাপতি জিম বয়েস। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ''উয়েফায় থাকার সময় জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন আমার সাথে সভাগুলোতে অংশ নিতেন, তখন তিনি বেশ ভদ্র ও বিচক্ষণ একজন মানুষ ছিলেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘটনার পর আমার মনে হয়, কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে ক্ষমতার দাপট তার মাথায় চড়ে বসেছে। আর আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে, বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মধ্যে গোপন যোগসাজশ ছিল।''
বয়েস আরও বলেন, ''নিঃসন্দেহে প্রচুর সংস্কারের কাজ বাকি রয়েছে। এখানে যা ঘটেছে, তাতে সাধারণ ফুটবল সমর্থকেরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তবুও সংস্কারের কী কাজ করা হয়, তা তারা দেখার অপেক্ষায় আছেন। ফিফা প্রেসিডেন্টের পদটি অত্যন্ত উঁচু মর্যাদার। এখন তিনি যদি নিজের পদ ধরে রাখতে চান, তবে এই হাস্যকর প্রস্তাবের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামতের কাজ তাকে দ্রুতই শুরু করতে হবে।''
সম্প্রতি ইনফান্তিনো একটি গোপন পরিকল্পনার অধীনে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকারের একাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করার উদ্যোগ নেন। উয়েফা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এটিকে "ফুটবল বিক্রি করার অপচেষ্টা" এবং চরম অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে।
বসির আহমেদ