ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ক্লাইমেট জাস্টিস ও ন্যায্য ক্লাইমেট ফাইন্যান্সের আহ্বান ড. সাইমুম পারভেজের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 24, 2026 ইং
ক্লাইমেট জাস্টিস ও ন্যায্য ক্লাইমেট ফাইন্যান্সের আহ্বান ড. সাইমুম পারভেজের ছবির ক্যাপশন:
ad728

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) লিডার্স মিটিং অন ডেভেলপমেন্ট রিসেট অ্যান্ড কোঅপারেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন (ইউএনজিএ ৮১)-এর সাইডলাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, ড. সাইমুম পারভেজ বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ইউএনজিএ ৮১-এ অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। চতুর্থ সিভিএফ লিডার্স মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের চেয়ার ও বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি। বৈঠকে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে ড. সাইমুম পারভেজ জাস্টিস, অ্যাম্বিশন ও সলিডারিটিকে বৈশ্বিক ক্লাইমেট অ্যাকশনের কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও উন্নয়নবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কণ্ঠ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন আগামীকালের শিরোনাম নয়; এটি আজ আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।”

ক্লাইমেট ভালনারেবল দেশগুলোর স্বার্থ ও দাবি আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন ড. সাইমুম পারভেজ। ঢাকা ডিক্লারেশন ২০১১ থেকে ঢাকা-গ্লাসগো ডিক্লারেশন ২০২১ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ইস্যুকে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যখন ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলে, তখন বিশ্ব আর মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারে না।”

বৈঠকে ভালনারেবিলিটি টু ভায়াবিলিটি (ভিটুভি) কমপ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান ড. সাইমুম পারভেজ। একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত অভিঘাতের কারণে ব্যালান্স অব পেমেন্টসে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় দ্রুত তারল্য সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত লাইফলাইন ফান্ডের প্রতি বাংলাদেশের জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে একটি বড় জলবায়ু দুর্যোগই কয়েক বছরের উন্নয়ন অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে জলবায়ু অভিঘাতের পর দ্রুত কার্যকর আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সক্ষম ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থ সিভিএফ লিডার্স মিটিংয়েও ভিটুভি কমপ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়া, লাইফলাইন ফান্ড কার্যকর করা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখতে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানান ড. সাইমুম পারভেজ।

তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। ক্লাইমেট ও ফাইন্যান্সের দ্বৈত সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপের কারণে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে।

কপ৩১ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার তুলে ধরেন ড. সাইমুম পারভেজ। এগুলো হলো—পূর্বানুমেয়, সহজ শর্তের ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা; লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড পুরোপুরি কার্যকর করে দ্রুত ও সহজে অর্থ ছাড়; ঋণ সহায়তা ও সহজ শর্তের অর্থায়ন বাড়াতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো সংস্কার; এবং জলবায়ু জবাবদিহি জোরদারে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) পরামর্শমূলক মতামত কাজে লাগানো।

ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে যেন স্কুল নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও মৌলিক উন্নয়নের প্রয়োজন এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরির মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও কার্যকর করতে হবে। বক্তব্যের শেষে তিনি আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পদক্ষেপকে সবার জন্য টেকসই ও ন্যায্য উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
পাংশায় শাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু 

পাংশায় শাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু