আটক ব্যক্তিরা হলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইকরকান্দি গ্রামের ইয়াসমিন বেগম এবং তার দুই ভাই ইকরাম সরদার ও সুরুজ সরদার।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি জাল দলিলের ভিত্তিতে ভূমি অফিস থেকে জমির নামজারি ও খাজনা খারিজ সম্পন্ন করে তা বিক্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আসেন ইয়াসমিন ও তার দুই ভাই। নড়িয়ার বাসিন্দা রতন সরদারের সঙ্গে জমি বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হলে তিনি ব্যাংকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অগ্রিম ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা দেওয়ার আগে স্থানীয় ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকদের মাধ্যমে জমির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তখন কাগজপত্র সঠিক রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছিল।
তবে বুধবার দলিল নিবন্ধনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মচারীরা কাগজপত্র পুনরায় পরীক্ষা করেন। এ সময় নামজারির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত মূল দলিলটি জাল বলে শনাক্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কার্যালয় থেকে ইয়াসমিন ও তার দুই ভাইকে আটক করা হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
রতন সরদার বলেন, দলিল লেখক ও ভেন্ডাররা কাগজপত্র সঠিক বলে নিশ্চিত করার পরই তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দেন। পরে রেজিস্ট্রির সময় জানতে পারেন, জাল দলিলের ভিত্তিতে জমিটির নামজারি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোনো অসাধু চক্র থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার তাহমিদ তিশাদ নিলয় বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে তিনজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সরকারি কাজে জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, রতন সরদার বাদী হয়ে মামলা করার আবেদন করেছেন। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভূমি অফিস বা দলিল লেখকদের কোনো চক্র জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বসির আহমেদ