জানা যায়, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পূর্বে সামাজিকভাবে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী এলাকার মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের দাম্পত্য জীবনে চার বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে।
ঝুমুরের বাবা করিম খান বলেন, বিয়ের পর থেকে মেয়ে জামাতা, তার মা, বোন ও বোন জামাতা কারণে-অকারণে সেতুকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। এরই মধ্যে সেতুর স্বামী কর্মের সুবাদে কুয়েত গমন করেন। পরবর্তীতে তার (শাহারিয়া) মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন, রিয়া ও নাজমিনের জামাতা সাইদুল হাওলাদারের প্ররোচনায় ঝুমুরের ওপর মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় শাহারিয়া। এক পর্যায়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ঝুমুরকে তার মেয়েসহ তাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে ঝুমুর কন্যাকে নিয়ে তার (বাবার) বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
করিম খান আরও বলেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ’ বরযাত্রীকে না আনাসহ সেতু দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাত তুলে দীর্ঘদিন থেকে শাহারিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা মানসিক নির্যাতন করে আসছে। ঘটনার দিন (৪ অক্টোবর) রাতে শাহারিয়া ভিডিও কল দিয়ে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে তাকে (ঝুমুর) বিষপান করে মরে যাওয়ার কথাও বলে। স্বামীর এই মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে রবিবার রাতে পরিবারের সবার অজান্ত ঝুমুর বিষপান করে। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে (ঝুমুর) উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ও রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেতুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান সেতুর বাবা।
আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগের ব্যাপারে শাহারিয়া কাজী শাহাবুদ্দিনের পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
বসির আহমেদ