‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ চতুর্থবারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ভেন্যু ও সূচি ঘোষণা করেছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক প্রেস রিলিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সাফ।
আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত কয়টি দেশ অংশ নেবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী নেপাল ফিফার সাসপেনশনে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাসপেনশন না উঠলে নেপালকে ছাড়াই হবে আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ১ আগস্ট ভুটানে হবে টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠান। তার আগে ২৫ জুলাই ঢাকায় লোগো উম্মোচন।
নেপালের সাসপেনশন সময়মতো না উঠলে মাত্র ৬ দল নিয়ে ঢাকায় বসতে পারে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পনেরতম আসরটি।
সাফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আসরের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। এবারের আসরে সাফের সব সদস্য দেশ অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের আসর হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ১৫তম সংস্করণ। ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে, যা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি উৎসাহের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার এই প্রতিযোগিতা এর আগে তিনবার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০০৩ সালে প্রথমবার আয়োজন করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেবারের আসরের ফাইনালে বাংলাদেশ হারিয়েছিল মালদ্বীপকে।
এরপর বাংলাদেশ ২০০৯ ও ২০১৮ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে। তবে কোনোবারই বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব টপকাতে পারেনি। গত আসরে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠে হেরেছিল কুয়েতের কাছে। তবে বাংলাদেশ দুর্দান্ত লড়াই করেছিল কুয়েতের বিপক্ষে।
২০০৩ সালে প্রথম ও শেষবার শিরোপা জেতা বাংলাদেশের সামনে আয়োজক হিসেবে ট্রফি উদ্ধারের সুযোগ থাকবে। নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে সাফের শিরোপা জয়ের মিশন শুরু করবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
জুনে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে ডুলি অভিষেক ম্যাচ জিতেছে সান মারিনোর বিপক্ষে। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি জেতায় বাংলাদেশের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ একটি চারজাতি টুর্নামেন্ট আয়োজনেরও পরিকল্পনা করছে। এই টুর্নামেন্ট হলে সাফের আগে ভালো একটা প্রস্তুতি হবে তপু-রাকিবদের।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত নয়। মাত্র তিনবার ফাইনালে উঠে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অন্য দুইবারই বাংলাদেশ ফাইনালে হেরেছে ভারতের কাছে। ২০০৩ সালে ট্রফি জিতে দুই বছর পর পাকিস্তানের করাচিতেও ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ট্রফি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২-০ গোলে ভারতের কাছে হেরে করাচি থেকে ফিরেছিলেন জয়-এমিলিরা।
চতুর্থবারের মতো সাফ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা। শনিবার লোগো উন্মোচনের মাধ্যমে বেজে উঠবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পনেরতম আসরের বাঁশি। আয়োজক হিসেবে সফলতার পাশাপাশি মঠের পারফরম্যান্সের জন্য বাংলাদেশকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযজ্ঞ শেষ হয়েছে। এখন দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপের ক্ষণগননা শুরু হবে শনিবার থেকে।
বসির আহমেদ