ঢাকা | বঙ্গাব্দ

হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 8, 2026 ইং
হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন উপদেষ্টা ডা. জাহেদ ছবির ক্যাপশন:
ad728

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এ বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশলগত দ্বিধা নেই।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম—তিনি (শেখ হাসিনা) আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়টি ভারতের ওপর চাপ তৈরির কোনো কৌশল নয় বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যর্পণের বিষয়টি শর্ত হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছে এবং এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় নেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট।

শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ আছে কি না—এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ডা. জাহেদ বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই এবং দেশে ফিরলেও বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে না।

এদিকে, শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. জাহেদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে এভাবে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেবেন—এটি বাংলাদেশের প্রত্যাশিত ছিল না।

তার মতে, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত শেখ হাসিনাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে ভারত সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে ভারতে তিনি কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও বাংলাদেশ স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

ডা. জাহেদ বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এ বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিক একটি পদক্ষেপ নিতে পারে—শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা।

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।

তবে শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের কাছে কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষোভের বিষয়, সেটি ভারত সরকারের উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

ডা. জাহেদ আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায়—এমন বিশ্বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
আরও সহজ হলো এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন প্রক্রিয়া  

আরও সহজ হলো এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন প্রক্রিয়া