দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বুসানের নর্থ পোর্টের নাম অনুসারে হাঙরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বুকাং-ই’। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শহরের একটি ওয়াটারফ্রন্ট পার্কের জলপথে প্রথমবার এটিকে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি একটি ‘ব্রোঞ্জ হোয়েলার’ প্রজাতির হাঙর। শিকারের পেছনে ছুটতে গিয়ে সমুদ্র থেকে খালের ভেতরে ঢুকে পড়ার পর প্রাণীটি আর বের হওয়ার পথ খুঁজে পায়নি বলে মনে করছেন তারা।
হাঙরটি দেখা যাওয়ার দিনই সেটিকে সমুদ্রে ফেরানোর চেষ্টা করে কোস্টগার্ড। তবে বিজ্ঞানীদের পরামর্শে ছয় ঘণ্টা পর অভিযান স্থগিত করা হয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, জোর করে হাঙরটিকে বের করার চেষ্টা করলে সেটি আহত হতে পারে কিংবা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে হাঙরটিকে খালের মুখের দিকে ঠেলে দিতে কোস্টগার্ডের কয়েকটি নৌযান এর পেছনে পানির জোরালো ধারা ছোড়ে। কর্মকর্তারা জানান, ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের অগভীর পানিতে আটকে পড়া একটি গ্রেট হোয়াইট হাঙর উদ্ধারে একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। নৌযানগুলোর পাশ কাটিয়ে হাঙরটি আবারও খালের ভেতরে ফিরে যায় বলে জানিয়েছে হেরাল্ড বিজনেস।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, বর্তমানে হাঙরটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে দীর্ঘ সময় খালে আটকে থাকায় এর চলাফেরা ও খাবার সংগ্রহের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমায় হাঙরের উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফিশারিজ সায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির পূর্ব উপকূলে ৪৬টি বড় আকারের হাঙর দেখা গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় চার গুণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, সমুদ্রের পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং হাঙরের শিকারের মাছের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
বুসানের নর্থ পোর্ট ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে সাধারণত ছুটির দিনে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মানুষ ভিড় করেন। কিন্তু হাঙরটি আটকা পড়ার পর দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পার্কটিতে ৬ লাখ ৭ হাজার মানুষের উপস্থিতি রেকর্ড করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার ৬২ বছর বয়সী কিম জং-সুকও হাঙরটিকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে যান। মেইল শিনমুনকে তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে হাঙরটিকে দেখতে দেখতে তার প্রতি এক ধরনের মায়া তৈরি হয়েছে। তাই বিদায় দিতে এসে কিছুটা খারাপ লাগছে বলেও জানান তিনি।
বুসানের মেয়র চুন জে-সুও হাঙরটির ভক্ত হয়ে উঠেছেন। সিবিএস রেডিওকে তিনি বলেন, হাঙরটির মধ্যে তারকার মতো আকর্ষণ রয়েছে। প্রতি পাঁচ থেকে ১০ মিনিট পরপর এটি পানির ওপরে উঠে আসে বলেও জানান তিনি।
এমনকি শহর কর্তৃপক্ষ হাঙরটিকে বুসানের সম্মানসূচক প্রচারদূত হিসেবে ঘোষণা করেছে। নগরীর ইনস্টাগ্রাম পেজে পরিচালিত এক জরিপে ৯১ শতাংশ মানুষ এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দেওয়ার পর হাঙরটির জন্য ‘শাফ্লুয়েন্সার’ উপাধি দেওয়া হয়। শহরের মাসকট ‘বুগি’ তার হয়ে সম্মাননাপত্র গ্রহণ করবে।
আট বছর বয়সী লি দো-ইয়ুন বাবার সঙ্গে হাঙরটিকে দেখতে এসেছিল। তবে বিদায়ের সময় এলেও সে মোটেও চিন্তিত নয়। তার ভাষায়, ‘ঠিক আছে। বুকাং-ই তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে।’ হাঙরটিকে নিরাপদে সমুদ্রে ফিরিয়ে দিতে উদ্ধারকারী দলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান
বসির আহমেদ