নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। ভারতের সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত উদ্বেগকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব ও সহানুভূতির সঙ্গে দেখছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির বিষয়েও ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বড় চাপের জায়গাগুলোর একটি এখন বাণিজ্য। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এতে ভারতের ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল। তবে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশের অর্থনীতি, উৎপাদনব্যবস্থা ও সমাজের কাঠামোর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে কৃষি খাত ভারতের জন্য স্পর্শকাতর হওয়ায় বাণিজ্য আলোচনায় বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির বিষয়ে মোটামুটি একটি বোঝাপড়া তৈরি হলেও বাস্তবতার কারণে অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হয়েছে।
রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্কও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি করেছে। জয়শঙ্করের মতে, বাণিজ্য আলোচনা গত বছরে সম্পর্কে কিছুটা ‘ধাক্কা’ তৈরি করেছে এবং চুক্তি সম্পন্ন হলে তা সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জয়শঙ্কর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। ফলে বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে কোনো অংশীদার দেশের যথেষ্ট বোঝাপড়া বা সহানুভূতি না থাকলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সমস্যা তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি ও এইচ-১বি ভিসা নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, বহু বছর ধরে মানুষের চলাচলকে অর্থনৈতিক সুবিধা হিসেবে দেখা হলেও এখন এর অর্থনীতি ও রাজনীতি পরস্পরের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করছে।
সূত্র: আলজাজিরা
বসির আহমেদ