এই পরিসংখ্যানকে ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে মোদী বলেন, ‘৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার—এটি একটি শক্তিশালী সংখ্যা। এতে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।’
বিশ্বের চলমান অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মোদী বলেন, গোটা বিশ্ব যুদ্ধ ও নানা সংকটে বিপর্যস্ত। কোভিড-১৯ মহামারির পরও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরেনি। সরবরাহব্যবস্থাও নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। এরপরও ভারত দ্রুতগতিতে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোদী বলেন, ভারত ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে দেশের কিছু মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।
এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই নাম না করে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করেন তিনি। রাহুলের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির নামের সঙ্গে শব্দের মিল রেখে মোদী সেটিকে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ বা ‘মিথ্যার গুঞ্জন’ বলে ব্যঙ্গ করেন।
ভিডিওবার্তায় আবারও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন মোদী। তার মতে, দেশীয় পণ্য ও আত্মনির্ভরতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিলে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় নতুন প্রজন্মের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
এ সময় দেশবাসীর উদ্দেশে তিনটি পরামর্শ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, অবসর কাটাতে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিদেশে গিয়ে বিয়ে করার বিষয়টিও এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে প্রয়োজন না থাকলে সোনা না কেনার পরামর্শও দেন তিনি।
মোদীর বক্তব্যে মূলত দেশীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং দেশের অর্থ দেশের মধ্যেই রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে বিয়ে ও অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনার পরিবর্তে দেশীয় পণ্য ও অর্থনীতিতে ব্যয়ের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির সর্বশেষ পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে মোদীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বিশ্ব অর্থনীতি নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
একদিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানকে ভারতের অর্থনীতির সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন মোদী, অন্যদিকে বিরোধীদের সমালোচনা করে রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন তিনি। ফলে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের পাশাপাশি তার বক্তব্যের রাজনৈতিক দিকটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
বসির আহমেদ